আব্দুল আজিজ(সাতকানিয়া,লোহাগাড়া)
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মী তারেকের মধ্যকার একটি ফাঁস হওয়া অডিও কল রেকর্ড ঘিরে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কৌশল এবং খোদ সংসদ সদস্যকে পায়ে গুলি করার মতো ভয়াবহ হুমকির বিষয়টি সামনে আসায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করতে শোনা গেছে। কথোপকথনের সময় বারবার লোহাগাড়া থানা, সার্কেল অফিস এবং ইউএনও অফিসের নাম উল্লেখ করে তাদের সাথে ‘সেটেলমেন্ট’ বা ‘ম্যানেজমেন্টের’ মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছিল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কথোপকথনের এক পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে পায়ে গুলি করার মতো চরম বিদ্বেষমূলক ও সহিংস মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এই অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে চারপাশে ঘুরে বেড়ান, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করা। বিপদের দিনে বা সুযোগ বুঝে তারাই যে নেতার পিঠে ছুরি মারতে দ্বিধা করেন না, এই অডিও তার প্রমাণ।
অডিওতে যেভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ‘ম্যানেজমেন্টের’ কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রশাসন যদি টাকার বিনিময়ে অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের কাছে ম্যানেজ হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কার কাছে যাবে?”
অবৈধ বালু ব্যবসার কারণে এলাকার পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের যোগসাজশের যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
