রাসেল আহমেদ(সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের আড়তগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ বেচাকেনা হলেও জ্বালানি তেলের সংকট এখন ব্যবসায়ীদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের দাম ও সংকটের কারণে হঠাৎ করেই বেড়েছে পরিবহন খরচ, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাছের বাজারে।
আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ফজলার রহমান মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টা ও সকাল ৯টায় দুই ধাপে এই আড়তগুলোতে প্রায় ১৫০০ থেকে ১৭০০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তবে বর্তমান জ্বালানি সংকট মাছের এই বিশাল বাজার পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলছে।
ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আগে যেখানে কম ভাড়ায় মাছ পরিবহন করা সম্ভব ছিল, এখন তা আর সম্ভব নয়।” বর্তমানে তিনি ঢাকাগামী ট্রাকের জন্য ১৯ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই চালক।
মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সড়কে পরিবহন কমে যাওয়ায় ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। তবে প্রতি গাড়িতে একলাফে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাদল মৎস্য আড়তের এক আড়তদার বলেন, “আগে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় ট্রাকভাড়া ছিল ১৩ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ২০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এতে প্রতি কেজি মাছ ঢাকায় নিতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ টাকা খরচ হচ্ছে।”
ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হৃদয় সেখ জানান, আগে যেখানে ১২-১৪ হাজার টাকায় মাছ পরিবহন করা যেত, এখন তা বেড়ে ১৮-২০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টিও ব্যবসায়ীদের আনুষঙ্গিক খরচ বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের আড়ত থেকে রুই, মৃগেল, কাতলা, কার্প, গ্রাসকার্প ও পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনে ঢাকায় নিয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মূলত পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
সার্বিকভাবে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি দামের চাপ হিসেবে এসে পড়ছে।
