লেখকঃ হুমায়ুন আহামেদ
রাজনৈতিক সফলতা মূলত নির্ভর করে গভীর জনসম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি এবং দৃঢ় নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর। একজন সফল রাজনীতিবিদ শুধু নিজ স্বার্থ দেখেন না, দলের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর পরিসরে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেন।
সাবেক চরতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলীয় টিকিটে প্রার্থী ছিলেন বিধায় সর্বসম্মতিক্রমে ইউনিয়ন জামায়াতের ভোট পেয়ে বারবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে থেকে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সফলতা ও বিফলতা দুটোই পরিলক্ষিত করা যায়। বৃহত্তর চরতী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর (Depended) করে তিনি যে রাজনৈতিক সফলতা পেয়েছেন, তাকে কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নয়, বরং দলীয় আনুগত্যের ফসলও বলা যায়।
আমি সাতকানিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত বৃহত্তর চরতী ইউনিয়নের রাজনীতির এ কাল-সে কাল নিয়ে লিখতে চাই না বা সমালোচনা করাও আমার কাজ নয়। কিন্তু চরতী ইউনিয়নের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আমার মতামত (Opinion) হলো, এখন সময়োপযোগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের (Generation) মধ্যে নতুন রাজনৈতিক যে ধারা প্রবহমান এবং নতুনদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা—সেটিকে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাজনৈতিক সফলতা বয়ে আনবে বলে যে আশা ব্যক্ত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ, তা গ্রামীণ/আঞ্চলিক রাজনীতিতেও সফলতার ছাপ রাখবে বলে মনে করি।
২৪-এর গণ-আন্দোলনের পর হতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক যে চিন্তাধারা ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তাতে দেখা যায় যে নতুন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তরুণ প্রজন্মের (Young Generation) উপস্থিতি বেশি। পার্লামেন্টে নতুনদের উপস্থিতি, সফল নেতৃত্বের ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও চিন্তাভাবনা এবং ছাত্রশিবিরের সকল নেতৃত্ব প্রশংসা করার মতো। আমি চরতী ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সকল নেতা-নেত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান করব—সময়ের উপযোগী নেতৃত্বের প্রয়োজন মেটাতে নতুনদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করার এখনই সময়।
চরতী ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান জনাব ডা. রেজাউল করিম সাহেবের ‘বিকল্প নাই’ শব্দটি ব্যবহার করে কিছুদিন যাবত সোশ্যাল মিডিয়ায় যে লেখালেখি হচ্ছে, তা কেবল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরতী ইউনিয়নের রাজনীতিকে ধ্বংস ও ভোট নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। ‘দলীয় আনুগত্য যেখানে ভোট পাওয়ার মূল উৎস’, সেখানে ‘বিকল্প নাই’ শব্দটা কোন অর্থে ব্যবহার করা যায়? প্রশ্ন রইল চরতী ইউনিয়নের রাজনৈতিক মহলের কাছে।
আমি কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা লেখক নই, তারপরেও নিজের মতামত লিখতে ও জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করলাম। এখানে নিজের রাজনৈতিক চিন্তা মূলত মানবকল্যাণ, সাম্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতি হলো সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের মাধ্যম, যা কোনো পেশা বা শোষণের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।
একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে আমার রাজনৈতিক ভাবনার কিছু দিক তুলে ধরলাম:
১. রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা উচিত। ২. ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গনির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনীতির মৌলিক দায়িত্ব; যা সব সময় আমার/আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মনে রাখা উচিত। ৩. ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গঠনমূলক সমালোচনা এবং মুক্ত আলোচনার মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্র সঠিক পথে চলতে পারে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও ন্যায়ের চর্চা করা উচিত। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনই একটি দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
